রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্ভয়ে ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করবেন। পূজা ঘিরে কেউ ভয়ভীতি দেখালে, হুমকি দিলে কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাঁকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন সংসদ সদস্য।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তেরখাদা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি অনুদান বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আজিজুল বারী হেলাল। এ সময় তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এমপি হেলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পূজা ঘিরে কেউ হুমকি-ধমকি দিলে কিংবা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তাঁকে বিষয়টি জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের স্বাধীনতা আছে। তাই কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা সম্ভব।
বক্তব্যে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ছোটবেলায় ঈদ ও পূজার সময় একে অপরের বাড়িতে যাওয়া-আসার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হতো। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও সবাই একই সমাজের মানুষ। একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে এমপি হেলাল বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তেরখাদা উপজেলার ৯৭টি পূজামণ্ডপে প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখা এবং পূজারীদের নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপনে এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
তেরখাদা উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অরবিন্দ প্রসাদ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শংকর কুমার বালার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওসার আলী, তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ আলী বিশ্বাস, মহানগর পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সমীর কুমার সাহা, আজগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ মেনন রায় এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিপ্লব কুমার সিকদার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সুজন কুমার বদ্ধ, পূজা কমিটির সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মধুসূদন মজুমদার ও সৈকত দাস। বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চৌধুরী ফখরুল ইসলাম, রবিউল হোসেন, ইকরাম হোসেন জামাদ্দার, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরীফ নাইমুল হক, মোল্লা হুমায়ুন কবির, মিল্টন হোসেন মুন্সী, বিল্লাল হোসেন, শেখ আজিজুর রহমান আজিবার, এসকে নাসির আহমেদ, শেখ ইউসুফ আলী, মোবাশ্বের আলম, খান গিয়াস উদ্দিন, ইলিয়াস মোল্লা ও ফেরদৌস মোল্লা।
এ ছাড়া যুবদল নেতা চৌধুরী আমিনুল ইসলাম মিলু ও গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রাজু চৌধুরী, সদস্যসচিব সাবু মোল্লা, ছাত্রদল নেতা সাব্বির আহমেদ তোগর, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন খও চৌধুরী আশাবুর রহমানসহ বিএনপি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রকাশেরও উপলক্ষ। তাই উৎসবকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।