আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস। অস্থিসন্ধির প্রদাহসহ বাতজনিত ও পেশি-হাড়ের রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।
ইউরোপিয়ান অ্যালায়েন্স অব অ্যাসোসিয়েশনস ফর রিউমাটোলজির (ইউলার) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে দিবসটি চালু হয়। এসব রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের ওপর রোগের প্রভাব তুলে ধরাও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
আর্থ্রাইটিস মূলত অস্থিসন্ধির প্রদাহ ও এ-সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগকে বোঝায়। এ রোগে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, ফোলা, শক্তভাব এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অস্থিসন্ধির শক্তভাব বেশি অনুভূত হয়। রোগের ধরন অনুযায়ী উপসর্গ ও জটিলতায় ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। শুধু বয়স্ক ব্যক্তিরাই নন, শিশু-কিশোর ও তরুণেরাও কিছু ধরনের আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্থিসন্ধিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা বা শক্তভাব দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, অস্থিসন্ধির ক্ষতি কমানো এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম সচল রাখা সম্ভব।
রোগের ধরন ও রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ, ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন চিকিৎসার অংশ হতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন বা নির্ধারিত চিকিৎসা বন্ধ করা উচিত নয়।
বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের মূল লক্ষ্য হলো অস্থিসন্ধির ব্যথাকে বয়সজনিত স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে উপেক্ষা না করা, রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।