হারিকেন সাইমন রোববার সামান্য গতিপথ পরিবর্তন করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূল ঘেঁষে অতিক্রম করবে এবং সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। তবে স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা কমলেও ঝড়টির সঙ্গে রয়েছে প্রবল বৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের ঝুঁকি রয়েছে।
পাঁচ মাত্রার সাফির-সিম্পসন হারিকেন স্কেলে এক ধাপ দুর্বল হয়ে বর্তমানে তিন মাত্রার ঝড়ে পরিণত হয়েছে সাইমন। তবে ধীরগতিতে এগোলেও এটি এখনো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শুরুতে স্থানীয় সময় রোববার দুপুরের দিকে ঝড়টির স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে হারিকেন পর্যবেক্ষণকারী উড়োজাহাজ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য বলছে, ঝড়টি আগের ধারণার চেয়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ফলে মেক্সিকোর হালিসকো অঙ্গরাজ্যের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার বা ৯ মাইল দূর দিয়ে এটি অতিক্রম করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) রোববার বিকেলের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঝড়টির ওপর সিয়েরা মাদ্রে পর্বতমালার কাছাকাছি উঁচু ভূখণ্ডের প্রভাব পড়ছে। এর ফলে ঝড়টির কেন্দ্রীয় অংশ মেক্সিকোর উপকূলের কাছাকাছি চলে এসেছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, স্বল্পমেয়াদে সাইমনের সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানার সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে। তবে ঝড়টি চলতে থাকলে এর কেন্দ্রের পূর্বাংশে হারিকেনের মতো তীব্র ঝড়ো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
মেক্সিকোর আবহাওয়া বিভাগের পরিচালক ফাবিয়ান ভাসকেজ এএফপিকে বলেন, সরাসরি স্থলভাগে আঘাত না হানলেও ঝড়টির মেঘমালা ও শক্তিশালী অংশ উপকূলীয় জনপদগুলোতে প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে বাতাসের কারণে অত্যন্ত ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৯ মিটার (প্রায় ৩০ ফুট) উঁচু ঢেউ এবং অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।’
প্রশান্ত মহাসাগরে চলতি বছরের ব্যস্ত হারিকেন মৌসুমে নতুন করে দেখা দিয়েছে সাইমন। শক্তিশালী এল নিনো সামুদ্রিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়ার কারণে বাতাসের গতিপ্রবাহে উল্লম্ব পরিবর্তন বা ‘উইন্ড শিয়ার’ কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে ঝড়গুলো আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বিপরীতে, এল নিনোর প্রভাবে আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেনের মৌসুম তুলনামূলক শান্ত রয়েছে।